আমার সম্পর্কে
স্বপ্ন দেখতে ভালো লাগে। মানুষ তো কত রকমেরই স্বপ্ন দেখে। আমার স্বপ্ন অবশ্য খুব সাধারন। বাংলাদেশ এর এসব স্বর্গীয় স্থান গুলোকে একবার হলেও নিজের চোখে দেখা। সময় পেলেই বন্ধুদের সাথে ঘুরতে বের হই। চেষ্টা করি পছন্দের মানুষদের সময় দেওয়ার। প্রোগ্রামিং ভালো লাগে কিন্তু অলসতার কারনে প্রাকটিস করা হয় না। নতুন কিছু জানতে ভালো লাগে, জানাতেও ভালো লাগে।
জনপ্রিয় পোস্টসমূহ
-
রোজ রোজ গৎবাঁধা রুটিনের বলয়ে থেকে যখন নাভিশ্বাস উঠে যায় তখনই মন চায় ছুটে যেতে পাহাড়ের ধারে, দিগন্তের কাছে। বান্দরবান। বাংলাদেশের ...
-
পৃথিবীর যা কিছু সুন্দর সবই মানুষের জন্য সৃষ্টি। সৃষ্টি সুন্দরের অন্বেষনে মানুষ খুঁজে ফিরে এধার থেকে ওধার। আর এই সুন্দর স্থানের না...
-
সমগ্র ক্রিকেট বিশ্বকে হতভম্ব করে দিয়ে ক্রিকেট মাঠে বলের আঘাত নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটার ফিলিপ হিউজ গতকাল শেষ নিঃশ্বাস ত্যা...
Powered by Blogger.
Archive for December 2015
নিমু এসেছিল নীল খামে মোড়ানো জীবনের প্রথম প্রেমপত্র হয়ে
জীবনের একুশতম বসন্ত বরণের আর অল্প কিছুদিন বাকি ছিল আমার। তার আগেই আচমকা নিমু চলে আসলো নীল খামে মোড়ানো জীবনের প্রথম প্রেমপত্র হয়ে। আমার ভিতরের অপ্রস্তুত প্রেমিক সত্ত্বায় মুহুর্তেই বসন্তের হাওয়া খেলে গেল, একটুও টের পাইনি আমি!
নিমু এসেছিল আপশা আলোয় দূর থেকে দেখা ঝাপসা আগন্তুকের মত, এসেই ওলট-পালট করে দিয়ে গেলো আমার মনের এপাশ ওপাশ। আমি কেবল তার গোলগাল দুইটা চোখের দিকে তাকিয়ে মুহুর্তেই স্তব্ধ হয়ে যেতাম। মুগ্ধ হয়ে নিমুতে কতবার হারিয়েছি নিজেকে!
নিমুর সাথে প্রথম সাক্ষাতের মুহুর্তটা স্পষ্ট মনে আছে আমার। আমি ছিলাম উন্মাদ নেশাগ্রস্থ প্রেমিক, আর সে ছিল তীব্র অভিমানী। মাঝখানে আমাদের দুজনের না মিলে যাওয়া অবাধ্য চাওয়া পাওয়াগুলো থাকে। কতশত অনুগ্রহ আর উন্মাদ আবেগে মুড়িয়ে যত্ন করে অগভীর প্রেমের অনুভূতি হতে চেয়েছি! সে অনুভূতির হিসাব নিকাশও কখনোই মেলানো হয়নি আমার।
একটা সময় যে বিকেলগুলো মিষ্টি রোদের নষ্ট ভালবাসার মুহুর্ত হয়ে কেটে যেত এখন ঠিক সেই বিকেলের পরে আমার মন খারাপের সন্ধ্যাবেলা নেমে আসে। আমার ভাবনায় খেলা করে---তার সন্ধ্যেবেলাটা এখন কেমন কাটে? সে কি এখনো আগের মত জানলার গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে জোছনা দেখে? হয়ত দেখে, কে জানে!
ফোনের ওপাশে নিমুর তীব্র আর্তনাদ মাখা ভালবাসা এখনো কানে লেগে আছে! কি এমন ক্ষতি আরেকবার যদি সে আসে নীল খামে মোড়ানো জীবনের প্রথম প্রেমপত্র হয়ে! না হয় সে ফিরে আসুক আরেকবার জীবনের অন্যতম বসন্ত হয়ে! আমি অপ্রস্তুত ভঙ্গিমায় কম্পিত হাতে লালা সূর্য এঁকে দেব তার কপালে।
বাবা
১৬ই ডিসেম্বর ১৯৯৫, এই দিনে বাবা আমার চলে গিয়েছিল না ফেরার দেশে। দীর্ঘ বিশ বছর।
জীবনের বিশ বছর বাবাকে ছাড়া পার করে দিলাম……… :'( :'(
বিশ বছর বাবা বলে ডাকা হয় না …
বিশ বছর বাবার সেই হাসি দেখিনা …
বিশ বছর বাবার গায়ের সুবাসটা আর পাইনা …
বিশ বছর বাবাকে স্পর্শ করি না …
বিশ বছর বাবার মত করে কেউ আমাকে রাজেশ বাবু বলে ডাকে না......
বিশ বছর বাবার কাছে আর কোনো বায়না করা হয় না ......
বিশ বছর বাবার স্কুলে যাওয়ার সময় সবে মাত্র দৌড়ানো শেখা আমি বাবার পিছন পিছন দৌড়াতে পারি না ......
বিশ বছর বাবার ফিরে আসার অপেক্ষায় আছি......
বিশ বছর পরে এসেও সেই দিন গুলো খুব জীবন্ত। শেষবারের মতো যখন বাবার প্রিয় মুখ আর ললাট ছুঁইয়ে দিয়েছলাম, সেই অসম্ভব শীতল অনুভুতি আমি এখনো একই ভাবে অনুভব করতে পারি ।
জান বাবা, মা একা বলে তোমার কাছে আসতে পারিনা তা না হলে অনেক আগেই তোমার কাছে চলে আসতাম। মা আমাকে অনেক ভালবাসে, কখনও তুমি না থাকার কষ্ট বুঝতে দেয় না। আর সব থেকে কষ্ট লাগে যখন আমি তোমার ছেলে হয়েও তোমার চেহারাটা মনে করতে পারিনা। যখন কারো কাছে তোমার কথা শুনি কল্পনায় তোমাকে ভাবতে থাকি, মনে করার চেষ্টা করি তোমার মুখটা তারপরও পারি না।
বাবা তোমার চলে যাওয়া, তোমার শুন্যতা আর তোমাকে ছাড়া জীবনযাপন সব মিলিয়ে এক রকম বেঁচে আছি । তুমি যেখানে আছো খুব ভালো আছো এই প্রত্যাশা এবং শুভকামনা সব সময়ের জন্য।
একদিন তোমার দেখা পাবো, তোমার গায়ের সুবাস পাবো, তোমাকে বাবা বলে ডাকতে পারবো, তোমার স্পর্শ পাবো এমন অনেক বুক ভরা আশা আর স্বপ্ন নিয়ে অপেক্ষায় থাকলাম……ওপাড়ের
বাবা অনেক ভালোবাসা তোমার জন্য

