আমার সম্পর্কে
স্বপ্ন দেখতে ভালো লাগে। মানুষ তো কত রকমেরই স্বপ্ন দেখে। আমার স্বপ্ন অবশ্য খুব সাধারন। বাংলাদেশ এর এসব স্বর্গীয় স্থান গুলোকে একবার হলেও নিজের চোখে দেখা। সময় পেলেই বন্ধুদের সাথে ঘুরতে বের হই। চেষ্টা করি পছন্দের মানুষদের সময় দেওয়ার। প্রোগ্রামিং ভালো লাগে কিন্তু অলসতার কারনে প্রাকটিস করা হয় না। নতুন কিছু জানতে ভালো লাগে, জানাতেও ভালো লাগে।
জনপ্রিয় পোস্টসমূহ
-
রোজ রোজ গৎবাঁধা রুটিনের বলয়ে থেকে যখন নাভিশ্বাস উঠে যায় তখনই মন চায় ছুটে যেতে পাহাড়ের ধারে, দিগন্তের কাছে। বান্দরবান। বাংলাদেশের ...
-
পৃথিবীর যা কিছু সুন্দর সবই মানুষের জন্য সৃষ্টি। সৃষ্টি সুন্দরের অন্বেষনে মানুষ খুঁজে ফিরে এধার থেকে ওধার। আর এই সুন্দর স্থানের না...
-
সমগ্র ক্রিকেট বিশ্বকে হতভম্ব করে দিয়ে ক্রিকেট মাঠে বলের আঘাত নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটার ফিলিপ হিউজ গতকাল শেষ নিঃশ্বাস ত্যা...
Powered by Blogger.
Archive for November 2015
মাউন্ট এভারেস্ট জয়ের শুরুর কথা
প্রথম মহাযুদ্ধের পরপরই শুরু হয় বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু এই শৃঙ্গ জয়ের প্রতিযোগিতা। শুরুর দিকে ভারত ও তিব্বত সরকার এভারেস্টে আরোহণ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল। পরবর্তীতে ব্রিটিশ সরকারের মধ্যস্থতায় দুই দেশের সরকারই এভারেস্টে আরোহণের বিষয়ে একমত হয়। সকল প্রতিকূলতা শেষে রয়েল জিওগ্রাফিক সোসাইটির অর্থায়নে গঠিত এভারেস্ট কমিটির অধীনে ১৯২১ সালে কর্নেল সিকে হাওয়ার্ড বেরী প্রথম অভিযান শুরু করেন। দলে ছিলেন জর্জ ম্যালোরি এবং অন্যান্যরা। মুলত এটা ছিল এভারেস্টের ম্যাপিং আর রেকি অভিযান। দীর্ঘ ৫ মাস ধরে এভারেস্টে ওঠার সম্ভাব্য পথ খুঁজতে থাকেন তারা। এই দলের দুঃসাহসী এক সদস্য ম্যালরি তার অপর দুই সঙ্গীকে নিয়ে ৭,১০৪ মিটার (১৯,১০০ ফুট) উঁচুতে এভারেস্টের শীর্ষ চূড়ায় যাওয়ার একটি নিরাপদ রাস্তা খুঁজে পান। কিন্তু চূড়ায় ওঠার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।
এর পরের বছর ১৯২২ সালে দলনায়ক জেনারেল ব্রুস এর অধীনে আবার নতুন করে অভিযানে নামেন ম্যালরিরা। এভারেস্টের ইতিহাসে এটাই প্রথম পূর্ণাঙ্গ অভিযান। আগেরবারের ঠিক করা পথে ম্যালোরির দল ২৬,৮০০ ফুট পর্যন্ত উঠে যান। অন্য পর্বতারোহী জেফ্রি ব্রুস আর জর্জ ফিঞ্চ ইতিহাসে প্রথমবারের মত অক্সিজেন সিলিন্ডার ব্যবহার করেন, তারা ২৭,৩০০ ফুট পর্যন্ত ওঠেন এবং ইতিহাসের প্রথম হাই ক্যাম্প স্থাপন করেন। তাদের সাথে যোগ দেয় আরও ১৩ জন ইংরেজ পর্বত আরোহী ও ৬০ জন শেরপা। কিন্তু হঠাৎই ৬ জুন রাতে সংঘঠিত এক তুষার ঝড়ে ৭ জন শেরপা হারিয়ে যায়। তাদের মধ্যে থেকে ৩ জনকে মৃত অবস্থায় খুঁজে পাওয়া যায়। এভারেস্ট ইতিহাসে প্রথম মারা যাওয়ার ঘটনা এটাই। এবারের অভিযানটিও ব্যর্থ হয়।
১৯২৪: আবার শুরু হল অভিযান
১৯২৪ সালে আবার নতুন করে শুরু হয় এভারেস্ট জয়ের অভিযান। এবারও দলনায়ক ছিলেন জেনারেল ব্রুস। দার্জিলিং যাওয়ার পর জেনারেল ব্রুস ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে দল থেকে বাদ পড়েন। তখন ম্যালোরিকে দলনায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়। দলে ছিলেন আগেরবার অক্সিজেন ব্যাবহারের যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত দেয়া জেফ্রি ব্রুস, হাওয়ার্ড সামারভেল, জর্জ নোয়েল। নতুন মুখ আলোচিত আরভিন এবং আরভিনের বন্ধু মাউন্টেনিয়ার নোয়েলও’ডেল।
১৯২৪ সালের ৮ জুন ম্যালোরিরা ২৬,৯০০ ফুট উঁচুতে ৬নং ক্যাম্পে অবস্থান করছিলেন। সেদিন অক্সিজেন সিলিন্ডার ও ক্যামেরা সাথে নিয়ে এভারেস্ট জয়ের জন্য বের হন ম্যালোরি ও অরভিন। ৮ জুন দুপুর ১২ টার পর তাদের আর দেখা যায়নি। তাদের কাছে পর্যাপ্ত অক্সিজেন ছিল। দুজনেই সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী সুস্থ ছিলেন। সামিটে ব্যার্থ হবার সম্ভবনা খুব কমছিল।আরভিন-ম্যালোরির রহস্যময় অন্তর্ধানের মধ্য দিয়ে ৩য় এভারেস্ট অভিযান ব্যর্থ হয়।
অবশেষে এভারেস্টে পদার্পণ
এরপর এক দশক এভারেস্ট অভিযান বন্ধ ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৭ সালে ৪র্থ অভিযান শুরু করেন কানাডীয় একটি দল। এরপর ১৯৫০ সালে আমেরিকান ও ব্রিটিশরা যৌথভাবে শুরু করেন এভারেস্ট অভিযান। ১৯৫১ সালে এরিক শিপ্টন নতুন এক পথ আবিষ্কার করে নামেন এভারেস্ট জয়ে। কিন্তু এবারও ব্যর্থ হয় অভিযান। অবশেষে ১৯৫৩ সালে এল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। তাদের সাথে যোগ দেন আরেকদল অভিযাত্রী। তাদের মধ্যে ছিলেন কর্ণেল জনহান্ট, এডমন্ড হিলারী, নেপালী তেনজিং নোরগে সহ আরও অনেকে। ১৯৫৩ সালের ২৯ মে সকাল ১১ টায় নিউজিল্যান্ডের এডমন্ড হিলারী তার ২য় প্রচেষ্টায় এবং নেপালের শেরপা তেনজিং নোরগে তার ৭ম প্রচেষ্টায় ইতিহাসে প্রথমবারের মত এভারেস্ট জয় করেন এবং স্বাভাবিকভাবে ফিরে আসেন।
তেনজিং-হিলারী জুটিই কি প্রথম এভারেস্ট জয় করেছেন?
সবাই জানেন হিলারী-তেনজিং জুটি সর্বপ্রথম এভারেস্ট এর চূড়ায় আরোহন করেন। ধারণা করা হয় হিলারী এবং তেনজিং এর আগে হয়ত এভারেস্ট চূড়ায় পা রাখেন অরভিন-ম্যালোরি জুটি। ১৯২৪ সালে অরভিন-ম্যালোরি প্রথম এভারেস্ট জয় করেন। কিন্তু সেই সাফল্য দাবি করার জন্যে জীবিত ফিরতে পারেন নি দু'জনের কেউই।
১৯৯৮ সালে একদল অভিযাত্রী মৃত অরভিনের লাশ খুঁজে পায় প্রায় অক্ষত অবস্থায়। তার পরনে ছিল সাতটি কাপড়। আশ্চর্যের ব্যাপার হল, অরভিনের দেহে তেমন কোন ক্ষত চিহ্নছিল না। প্রচন্ড ঠান্ডায় প্রায় অবিকৃত ছিল তার দেহ। তবে কিভাবে তারা হারিয়ে গিয়েছিলেন? এর সঠিক উত্তর অরভিনের হারানো ক্যামেরাই দিতে পারবে। তবে সেটা উদ্ধার করা যায় নি।
মারা যাওয়ার ৭৫ বছর পর ম্যালোরির মৃতদেহ সমতলে ফিরিয়ে আনা হয়। ম্যালোরির কোমড়ে ক্ষতের চিহ্ন পাওয়া যায়। তা থেকে ধারণা করা হয় অরভিনের সাথে দড়ি বেঁধে উপরে ওঠার সময় এই ক্ষত হয় এবং ২য় ধাপ বা ১ম ধাপ থেকে পরে গিয়ে তারা মারা যান।
মাউন্ট এভারেস্টে মৃত্যুর মিছিল:
এ পর্যন্ত ২৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে এভারেস্ট জয় করতে গিয়ে। এভালাঞ্চ বা তুষারধ্বস, পাথরস্রোত, তুষারঝড়, উচ্চতাজনিত অসুস্থতা, হিমাংকের নিচের তাপমাত্রা, ক্লান্তি এসবই মৃত্যুর প্রধান কারণ। এই সবগুলো পরিস্থিতির সম্মিলনে এক ভয়াবহ অবস্থা তৈরি হয়। বিশেষ করে ২৬ হাজার ফুটের ওপরের উচ্চতার এলাকা ডেথ জোন হিসেবে পরিচিত। সেখান থেকে মৃত্যদেহ নিচে নামিয়ে আনা কেবল কষ্টসাধ্যই নয় অত্যন্ত বিপদজনক। অধিকাংশ মৃতদেহ সেখানেই থেকে যায়। প্রচন্ড ঠান্ডায় তুষারের ভেতর মৃতদেহগুলো প্রায় অবিকৃত থাকে। পর্বতারোহীদের জন্য এগুলো অনেকটা পথনির্দেশকের মত কাজ করে।
এভারেস্টের ইতিহাসে ভায়বহ দিনটি আসে ১৯৯৬ সালের মে মাসে। একদিনেই আটজন পর্বতারোহী মারা যায়। এ মৃত্যুর মিছিল অব্যাহত আছে, গত বছর মারা গিয়েছে ১০ জন আর এ বছর মারা গিয়েছে ৮ জন। কিন্তু পর্বতারোহীরা দমতে রাজি নন। পৃথিবীর উচ্চতমশৃঙ্গটি জয় করতে হাজার হাজার ডলার খরচ করে জীবনের ঝুঁকি নিচ্ছেন।
মাউন্ট এভারেস্ট জয় আগের তুলনায় কিছুটা সহজ হলেও, এখনো এভারেস্ট অভিযান অত্যন্ত কঠিন ও বিপদসংকুল। প্রতিকূল আবহাওয়া ও অসাবধানতাবশত মারা যান অনেকে। মাউন্ট এভারেস্ট জয়ের একেবারে শুরুর দিকে একসাথে ৭ জন শেরপা মারা গিয়েছিলেন। এছাড়া প্রথম এভারেস্ট জয় করতে গিয়ে আরভিন-ম্যালোরিও মারা গিয়েছেন। এভাবে প্রতি বছরই কেউ না কেউ মারা যায়। এই তালিকায় বাংলাদেশও রয়েছে। ২০১৩ সালের ২১ মে এভারেস্ট জয় করে নিচে নেমে আসার সময় দূর্ঘটানায় নিহত হন বাংলাদেশী পর্বতারোহী মোহাম্মদ খালেদ হোসেন।
জাফলং
|
ওপারে খাসিয়া জৈন্তা পাহাড়, এপারে নদী। পাহাড়ের বুক চিড়ে বয়ে চলছে ঝরনা, আর নদীর বুকে স্তরে স্তরে সাজানো নানা রঙের নুড়ি পাথর। দূর থেকে তাকালে মনে হবে আকাশের গায়ে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে পাহাড়। পাহাড়ের গায়ে নরম তুলার মতো ভেসে বেড়াচ্ছে মেঘরাশি। প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্য আর কোথায় পাবেন, জাফলং ছাড়া?
|
ফিলিপ হিউজ
সমগ্র ক্রিকেট বিশ্বকে হতভম্ব করে দিয়ে ক্রিকেট মাঠে বলের আঘাত নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটার ফিলিপ হিউজ গতকাল শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। মাত্র ২৫ বছর বয়সে পরপারে চলে যাওয়া এই তরুণকে নিয়ে বিশেষ আয়োজন—
‘পিচ্চি’টা আর নেই!
ফিলিপ হিউজ
১৯৮৮-২০১৪
“সবচেয়ে যে শেষে এসেছিল
সেই গিয়েছে সবার আগে সরে।
ছোট্ট যে জন ছিল রে সবারচেয়ে
সেই দিয়েছে সকল শূন্য করে।”
—ছিন্নমুকুল; সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
চোখমুখে একটা দারুণ আদুরে ব্যাপার ছিল। দলে সবার ছোট ছিলেন বলে সতীর্থরা একেবারে ছোট ভাইটার মতোই ভালো বাসতেন। ডেভিড ওয়ার্নার তো আদর করে ‘লিটল মেট’ বলেই ডাকতেন। আর সেই ছোটবেলা থেকে ক্রিকেট মহলে একনামে লোকজন তাকে ডাকত—দ্য কিড; পিচ্চি।
নিয়তির কী নিষ্ঠুরতা, সেই আদরের দুলাল, অস্ট্রেলিয়ার প্রতিশ্রুতিশীল টেস্ট ক্রিকেটার, ‘পিচ্চি’ ফিলিপ জোয়েল হিউজ চলেই গেলেন; চলেই গেলে ব্যাট-বলের এই তুচ্ছ পৃথিবীর বাঁধন কাটিয়ে। ২৬তম জন্মদিনের ঠিক চার দিন আগে ‘বিদায়’ বলে দিলেন নশ্বর দুনিয়াকে।
মঙ্গলবার শেফিল্ড শিল্ডের ম্যাচে শন অ্যাবটের বলে মাথায় আঘাত পাওয়ার পর দুই দিন ধরে লড়াই করেছেন সিডনির সেন্ট ভিনসেন্ট হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে; কিন্তু আর পারলেন না হিউজ। সেই আঘাতের পর আর একটি বারের জন্যও জ্ঞান ফিরে না আসা এই তরুণ ক্রিকেটার মাত্র ২৫ বছর বয়সে পরলোকে পাড়ি জমালেন গতকাল।
পুরো ক্রিকেট বিশ্বকে শোকবিমূঢ় করে দেয়া এই প্রয়াণের খবর নিশ্চিত করে সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়েন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার টিম চিকিত্সক পিটার বার্কনার, ‘খুবই দুঃখজনক একটা দায়িত্ব হিসেবে আমি সবাইকে জানাচ্ছি যে, অল্প কিছুক্ষণ আগে আমাদের ছেড়ে চলে গেছে ফিলিপ হিউজ। আঘাত পাওয়ার পর থেকে তার আর কখনোই জ্ঞান ফিরে আসেনি। আমরা নিশ্চিত করছি, মৃত্যুকালে কোনো যন্ত্রণা ভোগ করেনি ফিলিপ। বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের বেষ্টিত অবস্থায়ই সে আমাদের ছেড়ে গেছে।’
তা সত্যি। মাইকেল ক্লার্ক সেই শুরুর দিন থেকে শেষ অবদি একটা মুহূর্তের জন্য হাসপাতাল ছেড়ে যাননি। ব্র্যাড হাডিন, স্টিভেন স্মিথ, শেন ওয়াটসন, ডেভিন ওয়ার্নার, নাথান লিওন, মিশেল স্টার্করা এই কটা দিন হাসপাতালেই যাতায়াতের মধ্যে ছিলেন। রিকি পন্টিং, স্টিভ ওয়াহ, সাইমন ক্যাটিচ, অ্যারন ফিঞ্চ, পিটার সিডল, জর্জ বেইলি, জাস্টিন ল্যাঙ্গার থেকে শুরু করে জাতীয় দলের কোচ ড্যারেন লেহম্যান বা ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী জেমস সাদারল্যান্ড ছিলেন হিউজের শেষ সময়টাতে।
না থেকে উপায় কী!
ফিলিপ হিউজ শুধু অস্ট্রেলিয়ার একজন উঠতি তারকাই ছিলেন না, ছিলেন সারা ক্রিকেট বিশ্বেরই এক সম্ভাবনাময় তারকা; মহাতারকা হয়ে ওঠারও সম্ভাবনা ছিল যার।
১৯৮৮ সালের ৩০ নভেম্বর নিউসাউথ ওয়েলসের ম্যাকসভিলে শহরে বাবা গ্রেগ ও মা ভার্জিনিয়া হিউজের ঘরে জন্মেছিলেন এই ভবিষ্যত্ অস্ট্রেলীয় তারকা। বাবার কলার খামারে বেড়ে উঠেছেন তিনি। সেখানেই বন্ধুদের সঙ্গে ক্রিকেট শুরু। একটু বড় হতেই হিউজকে গড়ে পিটে বড় করে তোলার দায়িত্ব নেন মাইকেল ক্লার্কের কোচ ডি কস্তা। এই ভদ্রলোকই মূলত হিউজকে ‘দ্য কিড’ বলে পরিচয় করিয়ে দেন।
২০০৯ সালে মাত্র ২১ বছর বয়সে টেস্ট অভিষেক হয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্টেই অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সর্বকনিষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে সেঞ্চুরি করে বুঝিয়ে দেন- তিনি থাকতে এসেছেন। এরপর ক্যারিয়ারে কিছু উত্থান-পতন পার হতে হয়েছে হিউজকে। ২০১৩ সালে হয়েছে ওয়ানডে অভিষেক; একমাত্র অস্ট্রেলিয়ান হিসেবে এই ফরম্যাটে অভিষেকেই সেঞ্চুরি করেছেন।
এবার বলা হচ্ছিল, ফিলিপ হিউজ নিজেকে স্থায়ী করতেই মাইকেল ক্লার্কের বদলে দলে আসছেন। আগমনী গানটা ওই সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডেই শোনাচ্ছিলেন। একের পর এক বাউন্সার সামলে, বল সীমানা ছাড়া করে ফিফটি পার করে গেলেন। ৬৩ রানে ব্যাট করতে থাকা হিউজ আরেকটা সেঞ্চুরির স্বপ্ন আটছিলেন হয়তো।
কিন্তু অ্যাবটের এবারের বাউন্সারটা কি ভেবে যেন পুল করতে গেলেন। ঘাড়ে বল লাগল, হেলমেট খুলে ফেললেন, পড়ে গেলেন সামনে মুখ করে; তারপর সব শেষ। সব স্বপ্ন, সব লক্ষ্য, সব গল্প থেমে গেল।
আসলেই কী হিউজের গল্প এখানে থেমে গেল? তাই কী হয়! ক্রিকেটের এই ‘পিচ্চি’ কী থেমে যেতে পারেন! ফিলিপ হিউজ থাকবেন না, থাকবেন তার বন্ধুরা। তার হয়ে ব্যাট করবেন, সেঞ্চুরি করবেন এবং অদৃশ্য এক কালিতে লেখা হবে—ফিলিপ হিউজ নট আউট।
----
আসলে কী হয়েছিল?
g স্পোর্টস ডেস্ক
পৃথিবী জুড়ে এখন দুই ধরনের আতঙ্ক কাজ করছে। প্রথমত ব্যাটসম্যানরা নতুন করে দারুণ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং দ্বিতীয়ত ফাস্ট বোলাররা ভয় পাচ্ছেন—বাউন্সার কী আর আদৌ দেওয়া ঠিক হবে!
ব্যাটসম্যান ও বোলারদের এই আতঙ্ক ও সংশয় দূর করতে এগিয়ে এসেছেন ফিলিপ হিউজের চিকিত্সক দল এবং এই ধরনের ইনজুরি বিশেষজ্ঞ। তারা বলছেন, এতে কারো ভয় পাওয়ার কিছু নেই। নির্দ্বিধায় বাউন্সার দেওয়া ও খেলা যেতে পারে। কারণ, এটি খুবই অস্বাভাবিক ও ভুতুড়ে একটা ইনজুরি। যা ক্রিকেটের শত বছরের ইতিহাসে খুব একটা দেখা যায়নি। ফলে এমনটা রোজ ঘটবে, ভাবার কোনো কারণ নেই।
ফিলিপ হিউজের সুরক্ষা ব্যবস্থায় কোনো দুর্বলতা ছিল না। নিয়ম অনুযায়ী অন্যান্য গার্ডের সঙ্গে হেলমেটও পরা ছিলেন তিনি। এই ইনিংসে খুবই দক্ষতার সঙ্গে বাউন্সার ছেড়েছেনও এর আগে এবং হুকও করেছেন। কিন্তু এই বলটায় হুক করতে গিয়ে টাইমিং না হওয়াতে বলটা এসে লাগে মূলত কানের সামান্য নিচে ঘাড়ের এক পাশের দিকে। ফলে মস্তিষ্কে রক্ত পৌঁছানোর বৃহত্তম ধমনীটি সঙ্গে সঙ্গে চাপা পড়ে যায় বলে বলেছেন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার চিকিত্সক পিটার বার্কার।
বার্কার ব্যাখ্যা করে বলেছেন, এই ধমনীতে কার্যত সঙ্গে সঙ্গে ছিঁড়ে যাওয়ায় মস্তিষ্কে বিপুল রক্তক্ষরণ ও রক্ত জমা হতে থাকে; যা অনেক সময় তাত্ক্ষণিক মৃত্যু ঘটায়। তবে নিউসাউথ ওয়েলসের চিকিত্সক ডক্টর জন অর্চার্ড বলেছেন, খুব দ্রুত অসাধারণ ভাবে হিউজকে উদ্ধার করায় তাকে চিকিত্সা দেওয়া পর্যন্ত বাঁচিয়ে রাখা গেছে।
এমনকি সেন্ট ভিনসেন্ট হাসপাতালের ট্রমা বিভাগের প্রধান ডক্টর টনি গ্রাবসও স্বীকার করেছেন, হিউজকে খুব দ্রুতই চিকিত্সার অধীনে আনা হয়েছে। এ ধরনের ইনজুরিতে আসলে চিকিত্সা পর্যন্ত বেশিরভাগ রোগীকে পৌঁছানো যায় না বলেই তারা বলছেন। তিন চিকিত্সকই বলেছেন, আসলেই এ ধরনের ইনজুরি রোজ রোজ ঘটে না। ফলে এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার খুব একটা কারণ নেই।
এমনকি সতীর্থ ক্রিকেটারদের উদ্দেশে চিকিত্সকরা নিশ্চিত করেই বলেছেন, এমন ঘটনার রেকর্ড ইতিহাস খুঁজলে একশটাও পাওয়া যাবে না।
দুই মিনিট নীরবতা পালন করবে শ্রীলঙ্কা
অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যান ফিলিপ হিউজের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আগামীকাল (শনিবার) কলম্বোতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অনুষ্ঠিতব্য দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচ শুরুর আগে দুই মিনিট নীরবতা পালন করবেন শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটাররা।
শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি) জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানের মৃত্যুতে শোক হিসেবে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটাররা কালো ব্যাজও ধারণ করবেন। তবে প্রমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য দ্বিতীয় ম্যাচে খেলোয়াড়দের এ কর্মসূচি নির্ভর করছে ম্যাচ কর্মকর্তাদের অনুমোদনের উপর। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসএলসির এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপি’কে জানান, ‘আমরা ম্যাচ কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের অপেক্ষায় আছি।’ অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেটে একটি শর্ট পিচ বলে মঙ্গলবার মাথায় আঘাত পেয়ে বৃহস্পতিবার সিডনির একটি হাসপাতালে মারা যান ২৫ বছর বয়সী হিউজ। শ্রীলঙ্কা দলের এমন কর্মসূচির বিষয়ে কলম্বোতে অবস্থানকারী ইংল্যান্ড দলের তাত্ক্ষণিক কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি। শ্রীলঙ্কান কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হিউজের প্রতি যৌথভাবে সম্মান জানানোর বিষয়ে দুই দলের মধ্যে আলোচনা চলছে।
দেয়া বিবৃতিতে এসএলসি সেক্রেটারি নিশান্থা রানাতুঙ্গা বলেন, ‘ফিল হিউজের এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে আমরা অত্যন্ত শোকাহত এবং আমরা তার পরিবার, বন্ধু, সতীর্থ খেলোয়াড় ও আমাদের বন্ধু ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।’
যে ছিলেন হিউজ
n পুরো নাম: ফিলিপ জোয়েল হিউজ
n ডাক নাম: হাগসি, দ্য কিড
n জন্ম: ৩০ নভেম্বর, ১৯৮৮; নিউ সাউথ ওয়েলস
n মৃত্যু: ২৭ নভেম্বর, ২০১৭; নিউ সাউথ ওয়েলস
n উচ্চতা:
n ব্যাটিং: বাঁহাতি ব্যাটসম্যান
n বোলিং: ডানহাতি অফস্পিনার
n দল: অস্ট্রেলিয়া, নিউ সাউথ ওয়েলস, মিডলসেক্স, হ্যাম্পশায়ার, সিডনি থান্ডার, উরচেস্টারশায়ার, সাউথ অস্ট্রেলিয়া, অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্স, মুম্বাই ইন্ডিয়ানস
n টেস্ট অভিষেক: ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০০৯; বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
n শেষ টেস্ট: ১৮ জুলাই, ২০১৩; বনাম ইংল্যান্ড
n ওয়ানডে অভিষেক: ১১ জানুয়ারি, ২০১৩; বনাম শ্রীলঙ্কা
n শেষ ওয়ানডে: ২২ অক্টোবর, ২০১৪; বনাম পাকিস্তান
n জার্সি নম্বর: ৬৪
আর্ন্তজাতিক ক্যারিয়ার
ম্যাচ রান গড় সর্বোচ্চ ১০০/৫০
টেস্ট ২৬ ১৫৩৫ ৩২.৬৫ ১৬০ ৩/৭
ওয়ানডে ২৫ ৮২৬ ৩৫.৯১ ১৩৮* ২/৪
টি-টোয়েন্টি ১ ৬ ৬.০০ ৬ ০/০
৩৩ কাপ চা ও কিছু স্বার্থপরতা
৩৩ কাপ চা ও কিছু স্বার্থপরতা
কয়েকদিন আগের কথা ঘটনা। আমার বন্ধু প্রেমের টানে ঘর ছেড়েছিল আর আমি বন্ধুত্বের টানে বরিশালের উদ্দেশ্যে। পকেটে টাকা ছাড়া শুধু অন্ধ ভালাবাসা যে আমাদের এতটুকু সাহস দিয়েছিল তা ভেবে আজও অবাক হই।
বছরটা খুব খারাপ যাচ্ছিল, কোথাও ঘুরতে যেতে পারিনি। আমার একটা বন্ধু আমাকে বলল পূজাতে বরিশাল যাবি? আমি হ্যাঁ বললাম, কারন বরিশাল আমার কাছে অচেনা। প্লান ছিল ১৯ তারিখ ৪ টার BRTC বাসে উঠবো। কিন্তু দু,জনের ভার্সিটিতে ক্লাস ছিল। চারটার আগে আমার ক্লাস শেষ হলেও ওর হল না। তাই আর ঐদিন যাওয়া হল না। মনে মনে ভাবলাম আর যাবই না। বন্ধুটাকে বলেও দিলাম আমি যাব না। ততক্ষণে আমি জেনেও গেলাম আসলে কি হতে যাচ্ছে আমার সাথে। বন্ধুটা যাচ্ছে ওর গার্লফ্রেন্ডের সাথে দেখা করতে। আমি না বললেও পরে যেতে চাইলাম কারন আমি ওকে কথা দিয়েছিলাম। এদিকে আমার জি.এফ আমাকে ২১ তারিখে দেখা করতে বলেছিল। ঐদিন আর যাওয়া হল না, সন্ধ্যায় দুই বন্ধু দেখা করলাম। ঠিক হল কাল সকালে যাব। বন্ধুটাকে না করতে পারলাম না, হয়ত আমার হেল্পটুকু ওর অনেক দরকার।
রূপসাতে টিকেট কাটতে যাব। ভাবলাম সাইকেলে যাব। আমরা যেখানে দেখা করলাম তার পাশেই ছোটবেলার বন্ধু লিংকনের বাসা। ও আমার অনেক ভালো বন্ধু। ওকে বললাম দোস্ত সাইকেলটা দে একটু রূপসা যাব। ও আমাকে বললাম না সাইকেল দিব না। আমি ভাবলাম ও হয়ত মজা করছে, কিন্তু পরে সিউর হলাম। লিংকন কিভাবে পারল আমাকে ফিরিয়ে দিতে? সবকিছু ভুলে গিয়ে দুই বন্ধু টিকেট কেটে ফিরলাম। কোনোমত কিছু খেয়ে রাতে ঘুমালাম।
২০ তারিখ সকালে ৮.৩০ এর BRTC গাড়িতে উঠলাম উদ্দেশ্য বরিশালের রুপাতলি বাসস্ট্যান্ড। ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট পর আমরা পৌছাই পিরোজপুর ফেরী ঘাট। কপাল টা নিতান্তই খারাপ ছিল, আমাদের আগের বাসটা ফেরিতে উঠলেও আমাদেরটা মিস করে।আমরা বরিশাল পৌছাই ১ টায়। নেমেই বন্ধুটা ফোন দিল ওর গার্লফ্রেন্ডকে আর আমি কল দিলাম আমার একটা অন্য একটা বন্ধুকে। কিন্তু বন্ধুটা দেখা করতে নারাজ তার ৫ টার আগে দেখা করার সময় নেই। ভাবলাম ও অনেক ব্যাস্ত আছে হয়ত।
বন্ধুটা ওর জি.এফের সাথে দেখা করল। এটা ওদের প্রথম দেখা। মনে মনে অনেক খুশি হলাম, আমার জন্য হয়ত কেউ ভালবাসাকে খুঁজে পেল। আমরা তিন জন একসাথে বাসে উঠলাম। কিছুক্ষন পর পৌছালাম দুর্গাসাগর নামে যেটি পাখি অভয়ারণ্য নামে পরিচিত। যদিও সেখানে মাত্র কয়েকটা কাক দেখছিলাম। টিকেট কেটে ভিতরে ঢুঁকে দেখলাম সবাই গার্লফ্রেন্ডের সাথে আসছে। সেখানে ২ ঘণ্টার মত ছিলাম, একা নির্বাক হয়ে বসে ছিলাম। অনেক প্রশ্ন ভেসে আসছিল কানে, ভাই একা নাকি? এখানে কেউ একা আসে নাকি? শেষমেষ ধৈর্যহারা হয়ে বন্ধুটাকে বললাম" চল, এখানে আমার একা ভালো লাগছে না। আমরা ৪ টার দিকে বের হলাম। সেখান থেকে বি.এম কলেজ ক্যাম্পাসে কিছুক্ষন কাটালাম। সারাদিন কিছু খাওয়া হয়নি। শুধু খেয়েছি ১/২ লিটার পানি আর ২৫০ মি.লি'র একটা কোল্ডড্রিঙ্কস। বন্ধুটা ওর গার্লফ্রেন্ডকে বাই বলে চলে আসলো।
আমি আবার ফোন দিলাম আমার সেই বন্ধুটাকে যে কিনা বরিশালে পড়ত। কিন্তু সে এখনও ফ্রী হয়নি। তার সময় নেই, সে বি.এম কলেজ পর্যন্ত আসতে পারল না। সে আমাদের ইজি বাইকে উঠে SBMC তে আসতে বলল। তার কি এমন ব্যাস্ততা? সত্যি কথা বলতে আমি বরিশাল যেতে সব থেকে বেশি আগ্রহী হই তার কারন হল আমরা তিনটা বন্ধু একসাথে হয়ত আড্ডা দিয়ে একটা রাত কাটাতে পারব। সেই কলেজে থাকার দিনগুলো মনে করিয়ে দিব। কলেজে থাকতে আমিই সবার সাথে সব থেকে বেশি মজা করতাম বন্ধুদের সাথে। সব থেকে বেশি থাপ্পড়ও আমার মুখে পড়ত, আমার মুখে সদ্য জন্ম নেওয়া ব্রনগুলোও শাস্তি পেত। কলেজ লাইফের গল্প বললে শেষ হবে না। আমার বন্ধু ও আমি নামলাম SBMC এর কাছাকাছি কোথাও। সারাদিনের বাসে বসে কষ্ট, কিছু খাওয়া হয়নি তারপরও বন্ধুটাকে ১০ মাস পর দেখার জন্য ছটফট করছিলাম। ১০/১৫ মিনিট পর পৌঁছে গেলাম BCMC তে।
বন্ধুটাকে ফোন দিলাম, বলল দেরি কর একটু। একটা চায়ের দোকানে বসলাম দু'কাপ চা ও খেলাম। ২৫ মিনিট হয়ে আমার বন্ধুর দেখা নাই। কিছুক্ষন পর ওর দেখা পেলাম। ও বলল টিউশনিতে ছিল তাই শেষ করে আসতে দেরি হয়েছে। এবার তিনজন মিলে SBMC এর ক্যাম্পাসটা ঘুরে দেখলাম। শুন্য পকেট, আর ক্ষুধার্ত পেট এবার সারাদিন পর পেটভোজনের পালা, গেলাম ছোটখাটো একটা হোটেলে। ভাতের সাথে আলু ভাঁজি খেলাম। খাবারটা অসাধারন ছিল। ২০ টাকায় অনেক ভালো খেলাম। এই অল্প বয়সে রাঙামাটির বাঁশ থেকে শুরু করে আমাদের বুয়ার রান্নাও খাওয়ার অভিজ্ঞতা আছে। কৌশিক খেয়েছিল না, ও খুব ব্যাস্ত হয়ে পড়ছিল কারন ওর টিউশনি ছিল। ও আমাদের চা খাওয়াল, জাস্ট ফর্মালিটি। এবার বিলটা দিয়ে ওর চলে যাওয়ার পালা। বন্ধুটা কৌশিকের কাছে শুনতে চাইল এখানে আশেপাশে দুর্গাপূজা হয় কোথায়? উত্তর আসলো" লঞ্চ ঘাট"। আমাদের কাছে বেশি টাকা ছিল না রাতটা কাটাতে হবে হয়ত কোন মন্দিরে অথবা কোন চায়ের দোকানে বসে চা খেয়ে। দুই বন্ধু ইজি বাইকে উঠে যাই লঞ্চঘাটে। তারপর লঞ্চে উঠে একটু ঘোরাঘুরি সেরে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলাম ৯ টা বাজে। আর হাঁটতে মন চায় না, অনেক হাঁটছি আজ। ঘুমে চোখ বুজে আসছে। মিল্টনের কাছে বেশি আতকা ছিল না। আমি ওকে বললাম চল রাতটা কোন একটা হোটেলে কাটাই। টাকা কম ছিল সেহেতু ৪০০ টাকায় কোন রুম পাওয়া যায় কি না খুজতে থাকি। একটা রুম পেলাম কিন্তু ৫০০ টাকার কমে দিল না। বাধ্য হয়ে আবার খোঁজা শুরু করে ২০০ টাকায় রুম পেলাম একটা। এমনিতে টাকা নেই তারপর ২০০ টাকার রুম এ জেনো খোঁদার ঈশারা। গোসল শেষ করে পানির বোতল আর বন্ধুটার জন্য ফোন কার্ড নিয়ে রুমে আসলাম।
একটা কথা ভেবে অবাক হয়ে গেলাম যে বন্ধুটার সাথে দেখা করে আসলাম, সে একবারও কল দিয়ে জানল না আমরা কোথায় আছি? আদৌ কোথাও থাকতে পারলাম কিনা?
কিছু প্রশ্ন আজও মনে জাগে---
একটা টিউশনিতে না গেলে কি হত? একদিন টিউশনি বন্ধ করলে কি এমন ক্ষতি? সে বরিশাল থেকে কেন আমাদের কাছে এল না, আমাদের কেন SBMC যেতে হল? কেন আমাদের ওর জন্য ৩০ মিনিট অপেক্ষা করতে হল? আজ সারাদিন এত অনুশোচনায় ভুগেছি বলার নয়। কেন এই স্বার্থপর পরিবশে আমার জন্ম?
ও একটা কথা বলা হয়নি মিলটন আমাকে বলেছিল ওর ডিপার্টমেন্টের একটা বন্ধু অনয়ের বাসায় রাতে থাকব। কিন্তু অনয়কে যখন ফোন করে তখন
............................................................................................................................................................................................................... (চলবে)
করমজল, সুন্দরবন
পৃথিবীর যা কিছু সুন্দর সবই মানুষের জন্য সৃষ্টি। সৃষ্টি সুন্দরের অন্বেষনে মানুষ খুঁজে ফিরে এধার থেকে ওধার। আর এই সুন্দর স্থানের নামই যদি হয় সুন্দরবন তাহলে আর নতুন করে বলার প্রয়োজন থাকে না কতটা সুন্দর ঐ বনটি। আর ছোটবেলা থেকে বেড়ে উঠা যদি হয় এই বনটি থেকে মাত্র ২১ কিলোমিটার দূরে তাহলে মনের মাঝে অনেক আগেই বনটি দেখার বাসনা জাগবেই। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে চলা দৈনন্দিন জীবন যখন পায় না ভ্রমনের সামান্য সুযোগ তখন সুন্দরটা বড় অসুন্দর হয়ে মনের দুয়ার দিয়ে পালিয়ে রক্ষা পায়। তবুও আশায় বাঁধি বুক, একদিন ঠিকই সুন্দরের পুজা দিতে দৃষ্টি নিক্ষেপ করবো সুন্দরবনে।
মিশন সাকাহাফং
রোজ রোজ গৎবাঁধা রুটিনের বলয়ে থেকে যখন নাভিশ্বাস উঠে যায় তখনই মন চায় ছুটে যেতে পাহাড়ের ধারে, দিগন্তের কাছে। বান্দরবান। বাংলাদেশের অন্যতম নৈস্বরগিক দৃশ্যের লীলাভূমি।প্রকৃতি তার আপন হস্তে বান্দরবানকে গড়ে তুলেছে, সাজিয়েছে আপন মহিমায়। অলঙ্কা
র যেমন একজন রমনীর শ্রী বৃদ্ধি করে ঠিক তেমনি বান্দরবান যেন আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির অলঙ্কার এবং অহঙ্কার। এ জেলাতেই রয়েছে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গ – সাকা হাফং। এটিই একমাত্র জেলা যেখানে দুটি নদী, সাঙ্গু ও মাতামূহুরি, দক্ষিণ থেকে উত্তর দিকে বয়ে চলে। সবুজ পাহাড়, ঘন অরন্য, পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে চলা নদী আর ঝর্ণার অপূর্ব সমাবেশ যেন এ জেলাটিকে করে তুলেছে এক স্বর্গপুরী।
৯ নভেম্বর ২০১১। সাকা হাফং জয়ের উদ্দেশ্যে আমরা আটজন (আমি, মহসিন, প্রিন্স, কাদের,
সাব্বির, ফয়সাল, হেভেন ও তারেক) ঢাকা থেকে রাতের
বাসে রওনা দিয়ে সকালে বান্দরবান শহরে পৌঁছাই। সেখান
থেকে রুমা বাসস্ট্যান্ড থেকে বাসে চড়ে ৩ ঘণ্টা পর পৌঁছাই
কৈক্ষংছড়ি। রুমা বাসস্ট্যান্ড থেকে কৈক্ষংছড়ি পর্যন্ত সমগ্র
পথটি এক কথায় অসাধারন। অভিজ্ঞ ড্রাইভারের দক্ষ চালনায়
আমরা পাহাড়ি উঁচু-নিচু পথ দিয়ে ছুটে চলেছি এবং উপভোগ
করেছি পাহাড় ও দিগন্তের মিতালি দৃশ্য।
কৈক্ষংছড়ি থেকে নৌকায় চড়ে সাঙ্গু নদীর বুক
চিড়ে আমরা ছুটে চলেছি রুমা বাজারের উদ্দেশ্যে। পাহাড়ের
বাঁকে বাঁকে বয়ে চলা নদীর নয়নাভিরাম দৃশ্য
দেখতে দেখতে পৌঁছে গেলাম রুমা বাজার।
সেখানে আমাদের পূর্ব পরিচিত গাইড
বাসিমং আমাদেরকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য উপস্থিত ছিলেন।
রুমা বাজার গাইড সমিতির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন
করে সেদিনকার মত আমরা একটা হোটেলে রাত কাটালাম।
১০ নভেম্বর। সকাল বেলায় আর্মি ক্যাম্প থেকে তাজিংডং যাওয়ার
অনুমতি নিলাম কেননা সাকা হাফং যাওয়ার জন্য তারা সাধারণত
অনুমতি দেয়না। বড় কিছু অর্জনের জন্য একটু
রিস্কতো নিতেই হবে। আগামি ছয় দিনের রান্নার জন্য
আমরা শুধুমাত্র মসলা, লবণ ও ডাল কিনে নিলাম
এবং সঙ্গে শুকনো খাবার হিসেবে কেক ও বিস্কুটও কিনলাম
কারন পরদিন হতেই আমরা সভ্য দুনিয়া হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ব।
অত্যন্ত দুর্গম অঞ্চল বলে খাওয়ার সমস্যা প্রকট।
আমাদের হন্টন অভিযান মূলত এখান থেকেই শুরু। আধ ঘণ্টার মত
পাহাড় বেয়ে উঠতে হল। তারপর সোজা নিচে ঝিরি পথ। ঝিরি পথ
দিয়ে হাটার অভিজ্ঞতা লিখে প্রকাশ করা অসম্ভব। গহীন নির্জন
পাহাড়ি অরণ্যের মাঝ দিয়ে বয়ে চলা ঝিরির কলতান, পাখির গুঞ্জন,
অদ্ভূত পোকা-মাকড়ের ডাক, হাজার ফুট উঁচু পাহাড়
থেকে নেমে আসা লতা-পাতা ও ঝিরির বুকে বিভিন্ন আকারের
পাথরের চাঁঈ। ঝিরি পথের শেষ আর গিরি পথের যেখানে শুরু
সেখানে আমরা ‘চিপাছড়া’ নামে একটি ঝর্ণার দেখা পেলাম।
সেই ঝর্ণার হিমশীতল পানিতে একটু ঝুঁকি নিয়ে গোসলও
করলাম। এবার গিরিপথ বেয়ে আবার উঠা। এই বিপজ্জনক গিরিপথ
দিয়ে খুব
সাবধানে পা ফেলে আমাদেরকে যেতে হয়েছে।
সর্বশেষ পাহাড়ের চূড়ায় অপূর্ব সুন্দর একটি লেক পাহাড়ের
সারির মধ্যখানে বিস্তৃত।
লেকটির নাম ‘বগালেক’। ভাবা যায়! সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায়
১২০০ ফুট উঁচুতে চারদিক পাহাড় ঘেরা একটি লেক। বগালেক
সম্পর্কে প্রচলিত একটি ধারনা হচ্ছে বছরের এপ্রিল-
মে মাসে এই লেকের পানি লালচে ঘোলাটে হয়ে যায়।
স্থানীয় ধারণা মতে কোন আগ্নেয়গিরির সংযোগ
থাকতে পারে। বগালেক পাড়াতে বম আদিবাসীদের বসবাস।
আমরা তাদেরই একটি কটেজ ভাড়া নিয়ে থাকলাম। সেইদিন
সৌভাগ্যবশত ছিল শুক্লাচতুর্দশী। পূর্ণিমার আলোয়
রহস্যঘেরা লেকটিকে দেখে বারবারই রোমাঞ্চিত হচ্ছিলাম।মুরগির বারবিকিউ
দিয়ে রাতের ভোজন শেষ করলাম। বগালেকে রাত্রি যাপন ছিল আমাদের এই অভিযানের
অসাধারণ অংশ।
১১ নভেম্বর। সকালবেলায় হাঁটা শুরু করলাম কেওক্রাডাং-এর
উদ্দেশ্যে। আমাদের মধ্যে পাঁচজন
আগে কখনো কেওক্রাডাং যায়নি। তাই সাকা হাফং-এর রুট
থানচি দিয়ে না করে এই পথে ঠিক করেছিলাম।
কেওক্রাডাং যাওয়ার পথে পেলাম চিংড়ি ঝর্ণা।
বাংলাদেশে যতগুলো সুন্দর ঝর্ণা আছে তার মধ্যে এটি একটি।
ঝর্ণা পার হয়ে আবার হাঁটা শুরু করলাম। ধৈর্য্যের অসীম পরিচয়
দিয়ে আরও দুই ঘণ্টা হেঁটে পৌঁছুলাম দার্জিলিং পাড়ায়। এখানেও বম
আদিবাসীদের বসবাস। দার্জিলিং পাড়ায় আমাদের পুরনো বন্ধু
রবার্টের সাথে দেখা করে আবার হাঁটা শুরু। রবার্টের
সহযোগিতায় এবার আমাদের সাথে যুক্ত হলেন সম নামের আরওএখানে উল্লেখ্য,
বাসিমং আমাদের সম্পূর্ণ অভিযানের সঙ্গী। কিন্তু সমদা হলেন
একটি নির্দিষ্ট পাড়া পর্যন্ত।
আরও আধঘণ্টা ওঠার পর কেওক্রাডাং পৌঁছালাম। কেওক্রাডাং-এ
উঠে মনে হচ্ছিল যেন বান্দরবানের ছাদে উঠেছি।
চারিদিকে সারি সারি পাহাড় আর সবুজের সমারোহ। সমুদ্রের
নিকটে নিজেকে তুচ্ছ মনে হয় আর কেওক্রাডাং-এর চূড়ায়
নিজেকে পর্বত দেবতা মনে হচ্ছিল। তিন ঘণ্টার ট্রেকিং এর
ক্লান্তি কর্পূরের মত উবে গেল কেওক্রাডাং জয় করে।
প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে বিমুগ্ধ হয়ে ভাবছিলাম জীবন্ কেন
কচ্ছপের মত দীর্ঘতর হলোনা!
কেওক্রাডাং প্রস্থান করার পর আমরা মোটামুটি সভ্য জগৎ
থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলাম। এরপরের পাঁচদিন আমাদের
জন্য অপেক্ষা করছিল এক কঠিন সংগ্রামময় মূহুর্ত। সকাল
থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আমাদের খাবার ছিল কেক, বিস্কুট,
স্যালাইন আর গ্লুকোজ। স্যালাইন আর গ্লুকোজই ছিল
আমাদের সারাদিনের চালিকাশক্তি। প্রত্যেকের হাতে ছিল লাঠি,
কেননা লাঠি ট্রেকিং-এর কষ্ট অনেকটা লাঘব করে। কাঁধে ছিল
প্রায় চার কেজি ওজনের ব্যাগ। এ কারনে বিস্কুট, স্যালাইন, ফাস্ট এইডের জিনিস পত্র সব হিসাব করে নিতে হয়ে ছিল
কেওক্রাডাং-এর পরে পাসিং পাড়া পার হয়ে সন্ধ্যের অনেক
আগেই আমাদের ঐদিনের গন্তব্যস্থল থাইকিয়াং পাড়ায়
পৌঁছে গেলাম। পাসিং পাড়া এবং থাইকিয়াং পাড়া – দুটিতেই বম আদিবাসিদের
বসবাস। পাড়ায় একজন মধ্য বযষ্ক শিকারী রামথন দা’র
সহযোগিতায় পাড়া কমিটির অনুমতি সাপেক্ষে ট্যুরিস্টদের জন্য
নির্ধারিত একটি ঘরে থাকলাম। আমাদের
বাসিমং তড়িঘড়ি করে খিচুড়ী রাঁধতে বসে পড়ল। পাড়ার
মাঝখানে বিশাল উঠান। উঠানে শুয়োর ঘুরে বেরাচ্ছিল আর
অদ্ভুত সব আওয়াজ করছিল। শুয়োরের সাথে বসবাস! এক
অন্যরকম অভিজ্ঞতা। বগালেক ছাড়ার পর থাইকিয়াং পাড়ায় এসে শুধু
একটাই অনুভূতি হচ্ছিল, আমরা ধীরে ধীরে দুর্গম
অঞ্চলে ঢুকে পড়ছি। দুর্গম বলছি এ কারণে যে, কাঠের
পাটাতনের উপর চাদর বিছিয়ে আঁটসাঁট হয়ে শুতে হয়েছে।
অবশ্য ওরা শীত নিবারণের জন্য কম্বল দিয়েছিল। হাত-মুখ
ধোয়া আর খাওয়ার জন্য আমাদের দশজনের জন্য বরাদ্দ ছিল
মাত্র দুই বোতল পানি। প্রাকৃতিক কাজ করার জন্য যে টয়লেট
ছিল তার নিচেই শুয়োর ঘুরাফেরা করছিল। কাজেই
বোঝা যাচ্ছে, যেই টয়লেটে গিয়েছে তার
একেবারে ত্রাহি মধূসুদন অবস্থা!
থাইকিয়াং পাড়ায় সেদিন রাতেত স্থানীয় একজন
বয়োজে্্যস্ঠকে নিয়ে আলোচনা করলাম। তিনি আমাদের ম্যাপ
দেখে কীভাবে পরের পাড়ায় যেতে হবে সে পরামর্শ
দিলেন। পরদিন সকালে আগের রাতের
রান্না করা খিচুড়ি খেয়ে আবার যাত্রা শুরু করলাম। উদ্দেশ্য তাকরাই
পাড়া।
১২ নভেম্বর। বাসিমং আর সমদার অভিজ্ঞ দিকনির্দেশনায় সকাল
থেকে দুপুর পর্যন্ত ক্রমাগত হাঁটলাম। হাঁটা বলতে পাহাড়ে ওঠা-
নামা আবার ওঠা-নামা। কিছুক্ষণ পরপর ঝিরি পাচ্ছিলাম যে কারণে পানির
কোন সমস্যা হয়নি। বাসিমং পথ
চলতে চলতে পাহাড়ি বরবটি কুড়িয়ে নিচ্ছিল
কেননা রাতে সেগুলো খেতে হবে। কারণ আমরা কোন
সবজি নিয়ে আসিনি। সকাল
থেকে ঘণ্টা তিনেক ভালোই যাচ্ছিলাম। পাহাড়ি পথ ছিল
বলে কোন অসুবিধা হচ্ছিলনা। কিন্তু একটা পাহাড় (যেটার নাম
জানা নেই) পড়ল যেটা ছিল আগের পাহাড় গুলোর
চেয়ে তুলনামূলক বেশি খাড়া। বহুদিন অব্যবহৃত থাকার ফলে পথ
হারিয়ে গিয়েছিল ঝোপঝাড়ে, জংলা লতাপাতায়। এই
পাহাড়টি উঠতে তিনটি সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলাম আমরা।
প্রথমত, তুলনামূলক খাড়া আর শিশিরে শিক্ত হয়ে পথ পিচ্ছিল
হয়ে ছিল। দ্বিতীয়ত, ঝোপঝাড় কেটে কেটে পথ
তৈরী করে যেতে হচ্ছিল। তৃতীয়ত, জোঁক। অভিযানে এই
প্রথম আমরা জোঁকের উপদ্রবের শিকার হলাম। একটু পরপরই
জোঁক ধরছিল আর টেনে টেনে ফেলে দিচ্ছিলাম। তখন
ভাবছিলাম, এ রক্তদান কিছুতেই বৃথা যেতে দিব না। পরক্ষণেই
ভাবছিলাম, সাকা হাফং! তা কী আদৌ জয় করতে পারব!
পাহাড়টা থেকে নামার পরেই গিয়ে পড়লাম রেমাক্রী খালে।
রেমাক্রী খাল জীবনে দেখা অনন্য সাধারণ
দৃশ্যের একটি। স্বচ্ছ সবুজ পানির প্রচন্ড স্রোত, পাথর আর
পাথরের চাঁঈ ভেঙে এগিয়ে চলছে আপন ঠিকানায়।
রেমাক্রী খালের দুপাশে ঘন বন। কোথাও কোন মানুষ
নেই। বনে কিছু গয়াল (বন্য গরু বিশেষ) দেখতে পেলাম।খাল
ধরে হাঁটতে হাঁটতে দুপুর নাগাদ একটা পাড়ায় এসে পৌঁছালাম। এর
নাম দুলাচরন পাড়া। এখানে মুড়ং বা ম্রো আদিবাসদের বসবাস।
মুড়ং আদিবাসিদের সম্পর্কে বইয়ে পড়েছিলাম।
বইয়ে পড়া জীবনযাত্রা বাস্তবে দেখতে পাব তা ভাবিনি। দুলাচরন
পাড়ায় যাত্রা বিরতির পর আবার সেই রেমাক্রী খাল
ধরে রওনা দিলাম পরবর্তী গন্তব্যস্থল তাকরাই পাড়া।
সুনশান নিরব নিভৃত অরন্যের মাঝখান
থেকে ভেসে আসা রেমাক্রী খালের ভয়ঙ্কর
স্রোতের শব্দ মনে একটা অজানা আতঙ্কের সৃষ্টি করছিল।
আতঙ্ক আরো বেড়েছিল যখন জানতে পারলাম যে সমদা পথ
ভুল করে ফেলেছেন। তারপরও তার
দিকনির্দেশানুযায়ী এগিয়ে চলছিলাম। কেননা ফেরার পথ নেই।
বিকাল গড়িয়ে প্রায় সন্ধ্যা। তখনও আমরা রেমাক্রী খালের
তীর ঘেষে চলছি। জঙ্গলে অন্ধকার ঝুপ
করে নেমে আসে। সবাই হাঁটার গতি বাড়িয়ে দিয়েছিলাম।
এমনিতেই আসিবাসীদের পাড়াগুলো অনেক তফাতে থাকে।
তার উপর রেমাক্রী খালের এদিকে পাড়া নেই বললেই
চলে। সেই দুপুরে দুলাচরণ পাড়া ফেলে এসেছিলাম, তারপর
আর কোন পাড়ার দেখা নেই। কাজেই
সামনে এগোনো ছাড়া কোন গতি নেই।
ক্ষণে ক্ষণে আলোর অবস্থা দেখছিলাম আর হন্য
হয়ে ছুটছিলাম। ততক্ষণে সবাই ভীত সন্ত্রস্ত। তারপর
একটা সময় কিছু আদিবাসীদের দেখা পাওয়া গেল। ওরা বলল,
আপনারা ঠিক পথেই যাচ্ছেন, তাকরাই পাড়া আর একটু সামনে। তখন
ধড়ে যেন প্রাণ ফিরে এল। এ কথাটি বলার আরও একটি কারণ –
আমরা সবাই গয়ালের পায়ের ছাপ দেখেছি কিন্তু একটা পায়ের
ছাপ কোনভাবেই গয়ালের পায়ের ছাপ ছিলনা। কারণ ওটা একটা বড়
থাবার ছাপ ছিল। হতে পারে ভাল্লুক, আবার নাও হতে পারে।
ত্রিপুরা আদিবাসীদের নিয়ে তাকরাই পাড়াটি গড়ে উঠেছে।
এখানে সিমন ত্রিপুরা এবং রমেশ ত্রিপুরার সাথে পরিচয় হল।
তাদেরই একটা ঘরে জায়গা ভাগাভাগি করে রাতে থাকলাম।
রাতে আমাদের জন্য বাসিমং বরবটির ঝোল দিয়ে তরকারি, ডাল
আর ভাত রান্না করলেন।
১৩ নভেম্বর। কাকডাকা ভোরে ঘুম থেকে উঠে হাত-মুখ
না ধুয়েই সকালের নাস্তা। তারপর যাত্রা শুরু। আজ আমাদের সেই
কাঙ্খিত দিন। এই মাহেন্দ্র দিনের জন্যই অপেক্ষা করছিলাম।
সবাই আসন্ন সাকা হাফং জয়ের উত্তেজনায় বিভোর।
আজকে আমাদের সফর সঙ্গী হয়েছেন সিমন ও রমেশ
ত্রিপুরা। সমদা ফিরে গেছেন তার গ্রামে।
আবার সেই রেমাক্রী খাল ধরে আমরা হাঁটা শুরু করলাম। বেশ
কয়েকটা ছোট-বড় ঝর্ণা পেলাম। সকালবেলায় খালের
হিমশীতল পানিতে অনিচ্ছা স্বত্তেও নামতে হয়েছিল।
একটা জায়গায় খাল অতিক্রম করার জন্য কোমর পর্যন্ত (কারও
কারও বুক) পানিতে নামতে হয়েছিল। দশটা নাগাদ নেপিউ পাড়ায়
গিয়ে পৌছালাম।এ পাড়ায় মুরংরা বসবাস করে। এখান
থেকে সাকা হাফং-এর চূড়া দেখে রোমাঞ্চ আরও
বেড়ে গিয়েছিল। ঘণ্টা দেড়েক এর মধ্যেই
আমরা সাকা হাফং-এর চূড়ায় পৌঁছে যাব। পাড়ার কারবারি (সর্দার) জানালেন
সাকা হাফং-এর পথটি এখন ঝোপ-ঝাড়ে পরিপূর্ণ।
ওখানে যেতে হলে স্থানীয়
একজনকে সাথে নিতে হবে। ‘ল্যাংড়ো’ নামে একজন
মুরং আমাদের সাথে যেতে রাজি হলেন। নেপিউ
পাড়াকে সাকা হাফং-এর বেস ক্যাম্প বলা যেতে পারে।
নেপিউ পাড়া পর্যন্ত আসতে বিগত কয়েকদিন
আমাদেরকে বিপজ্জনক কয়েকটি ঢালু পথ পাড়ি দিতে হয়েছিল।
কোথাও কোথাও পথ ছিল এক ফুট চওড়া আর এক-দেড় হাজার
ফুট নিচে ছিল খাদ। একটা ভুল পদক্ষেপে মৃত্যু ছিল অবধারিত।
অনেক পথ ছিল ঝুড়ি পাথরে আবৃত যেখানে পা পিছলে হাজার
ফুট নিচে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। এ সমস্ত কারণেই
আমাদের একজন বন্ধু – সাব্বির, চূড়ান্ত মূহুর্তে এসে সাকা হাফং-
এ যাওয়ার জন্য অপারগতা জানাল। অবশ্যই তাকে অভিনন্দন
জানাতে হবে যে এতটা পথ ধৈর্য, সাহস আর দক্ষতার
সাথে আসতে পেরেছে। আমরা কেউই তাকে জোর
করিনি কারণ যেহেতু ও নিজেই আর রিস্ক নিতে চাইছিলনা। যাই
হোক, নেপিউ পাড়ায় তাকে রেখে আমরা রওনা হলাম।
সত্যিকার অর্থে সাকা হাফং-এর পথটি ছিল অনেক
বেশি অ্যাডভেঞ্চারাস। সবার সামনে ল্যাংরোদা দা দিয়ে ঝোপ-
ঝাড় কেটে কেটে আমাদের জন্য পথ
তৈরী করে দিচ্ছিলেন। এমনিতেই খাড়া পাহাড় তার
উপরে ঝোপ-ঝাড়ের জন্য সামনের পথ দেখতে খুব
সমস্যা হচ্ছিল। জোঁকের উপদ্রবতো আছেই। কোথাও
কোথাও সূর্যের আলো কমে গিয়ে হালকা অন্ধকার
সৃষ্টি হয়েছিল। মনে হচ্ছিল আমাজান জঙ্গলে প্রবেশ
করেছি। এত নির্জন আর নৈঃশব্দিক পরিবেশ যে গা ছমছম
করে উঠে। হঠাৎ একটা চমৎকার ঝর্ণার দেখা পেলাম।
ঝর্ণাটি বেশ বড় ছিল। সময়ের অভাবে ঝর্ণার কাছে গেলাম না।
অভিযানের আদ্যোপান্ত সময়টাকে আমরা খুব হিসেব
করে ব্যবহার করেছি। যে জন্য ছবিও তুলেছি কম।
ঝর্ণা পেরিয়ে আরও কিছুক্ষণ হাঁটার পর সূর্যের আলোর
দেখা পেলাম। মনে হল যেন মাটি ভেদ করে বাইরের
জগৎটাকে দেখছি। তখন আমরা পাহাড়ের একটি উঁচু ঢালের উপর
দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ বাইরের জগৎটাকে উপভোগ করে আবার
ওঠা শুরু করলাম। একটি জায়গায় পথটা এরকম ছিল – ডানদিকে খাড়াঢাল
আর বামদিকে দেয়াল। ডানদিকের ঢালু জায়গাটায় একবার
পা ফসকে গেলে দেহের ভারে অথবা গতি জড়তার জন্যই
হোক;পিতৃ প্রদত্ত জানটা নিয়ে আর বাড়ি ফেরা হবে না। এজন্যই বোধহয়
সেনাবাহিনী এখানে আসার অনুমতি দেয়না। কিছু কিছু জায়গায় আধ
বসা হয়ে খুব ধীরে ধীরে উঠতে হচ্ছিল।
কেননা একজনের একটি ভুল পদক্ষেপের জন্য সবারই বিপদ
ঘনিয়ে আসতে পারে। অধিক সতর্কতার জন্য আমরা পরস্পর
থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখেছিলাম। আর কাউন্টিং ছিল
আমাদের সমস্ত অভিযানের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
প্রত্যেকেই তার অবস্থান থেকে কাউন্ট
করে উপস্থিতি জানান দিচ্ছিল।
তখন দুপুর বারোটা দশ। বিস্ময়ের ঘোর যেন কাটছিলনা।
অবশেষে সাকা হাফং-এর চূড়া পদপিষ্ট
করে সগর্বে চেঁচিয়ে উঠলাম, হুররে! আমরা পেরেছি!
সত্যিই, আমাদের মত অপ্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ট্রেকারদের জন্য
এটা ছিল এক অনবদ্য জয়। এক অসাধারণ অভিযান। সকলের সু-
শৃঙ্খল পদচারনা, সম্মিলিত প্রচেষ্টা, ঐক্য, ধৈর্য, সাহস, ত্যাগ, আর
জয়ের উন্মত্ত নেশার কারণেই এটা সম্ভব হয়েছে।
আমরা খুশিতে একে অপরকে জড়িয়ে ধরেছিলাম। আমার
চোখে প্রায় পানি এসে গিয়েছিল।
সাকা হাফং-এর মাঝখানে আমাদের জাতীয়
পতাকা দেখতে পায়ে আবেগ আরো ঘনীভূত হল। পতাকার
সামনে মাটিতে তিনটি পানির বোতল পেলাম, যেটার
মধ্যে রাখা কাগজে পূর্বসুরী অভিযাত্রীদের পরিচয়
লেখা ছিল। আমরা একটা মোটা লাঠির
মধ্যে ছুরি দিয়ে কেটে সবার নাম ও ফোন নাম্বার
লিখে গেঁথে দিলাম সাকা হাফং-এর চূড়ায়।
সাকা হাফং-এর চূড়া খুব বেশি চওড়া না। এর দক্ষিণ-পূর্ব
দিকে মিয়ানমার। মূলত, সাকা হাফং বাংলাদেশ এবং মিয়নামাররের
মধ্যে একটি সীমারেখা তৈরী করেছে। সাকা হাফং-এর চূড়াটিও
ঝোপ-ঝাড়ে আবৃত ছিল। আর যে দিকে দৃষ্টি দিই শুধু দিগন্ত
বিস্তৃত সবুজ পাহাড়ের সারি। নজরকাড়া দৃশ্যাবলী ও অজয়কে জয়
করার অনুভূতি এত দিনের সমস্ত পরিশ্রম, ক্লান্তি যেন
ধুয়ে মুছে দিল। উল্লেখ্য ২০০৬ সালে সাকা হাফং প্রথম জয় করেন ব্রিটিশ অভিযাত্রী জেনজি ফুলেন।
আমরা এক ঘণ্টার মত অবস্থান করে নেপিউ পাড়ায় ফিরে এলাম দুপুর নাগাদ। গিয়েই
সাব্বিরকে জড়িয়ে ধরে বিজয়ের অনভূতি জানালাম। সত্যিই, তার
জন্য আফসোস হয়েছিল। ও আমাদের অভিনন্দিত করল।
বিকাল নাগাদ একই পথে আমরা তাকরাই পাড়ায় ফিরে এলাম।
১৪ নভেম্বর।আজ আমাদের গন্তব্যস্থল শেরকর পাড়া। তাকরাই
পাড়া থেকে অন্য একজন গাইড আমাদেরকে থান্দুই
পাড়া পর্যন্ত পৌঁছে দিলেন। থান্দুই পাড়া পর্যন্ত আসতে দুই
ঘণ্টার মত লেগেছিল।
থান্দুইতে আমরা গাইডটিকে ছেড়ে দিলাম। কিছুক্ষণ
যাত্রাবিরতি নিয়ে আবার হঁটা শুরু করলাম।
থান্দুই থেকে শেরকর পাড়ায় যেতে আরও
একটি পাড়া পরেছিল। পাড়াটির নাম শিম্তলাম্পি।জিহবার ব্যায়ামের জন্য একেবারে যুতসুই একটা নাম।এরপরই ছিল তাজিংডং।
কেওক্রাডাং জয় হল, সাকা হাফং জয়ও হল, তাজিংডং-ই আর বাদ
থাকবে কেন! তাই তাজিংডং-এর চূড়ায়ও উঠে গেলাম। তাজিংডং-এর
তিনটি চূড়ার সবচেয়ে উঁচু চূড়াতেই উঠলাম। তিনটি চূড়া তাজিংডং-
কে বিশেষ সৌন্দর্য-মণ্ডিত করেছে। তবে তাজিংডং-এর চূড়ার
কাছাকাছি পথটাও বন্ধুর ছিল।
শেরকর পাড়ায় পৌঁছোতে বিকেল হয়ে গেল। এখন পর্যন্ত
দেখা সবচেয়ে সুন্দর পাড়া। এটিতেও বমরা থাকে। পাহাড়ের
উঁচুতে পাড়াটি অবস্থিত হওয়ায় যে কোন
জায়গা থেকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য চোখে পড়ে।
একজন বয়োজেস্ঠ ব্যক্তির ঘরে উঠলাম।
লোকটির আতিথেয়তা আমাদের মুগ্ধ করল। বৃদ্ধ লোকটির
দেহসৌষ্ঠব দেখেই বোঝা যায় পাহাড়িরা কত পরিশ্রমী।
পাহাড়িরা খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে নিত্যনৈমত্তিক ব্যস্ততায়
ডুব দেয়। তাদের কঠোর পরিশ্রম থেকে আমাদের অনেক
কিছু শেখার আছে।
শেরকর পাড়ার রাতটি চমৎকার কেটেছিল। সমস্ত পৃথিবী যখন
অন্ধকারে ডুবে গেল তখন আমরা কয়েকজন পাহাড়ের চূড়ার
কোন এক পাড়ার ঘরের বারান্দায় দাঁড়িয়ে নক্ষত্রমণ্ডিত আকাশ
দেখছিলাম। সেদিন জোছনা ছিল না। ক্ষণে ক্ষণে দেখছিলাম
উল্কার পতন আর আকাশগঙ্গা। দূর থেকে ভেসে আসছিল
একটি পাহাড়ি সঙ্গীতের সুর। ঘরের সাথে লাগোয়া বাঁশের
চটির তৈরী খোলা বারান্দায় দাঁড়িয়ে নক্ষত্র আর পাহাড়ি সুরের
মুর্ছনা অনাবিল আনন্দে ভাসিয়ে দিয়েছিল আমাদের। আজ
রাতেও যথারীতি বরবটির ঝোলের সাথে জুম চালের ভাত
খেলাম। আসলে গত পাঁচদিনের এই মানবেতর
খাওয়াদাওয়া বা জীবন-যাপন সবকিছুই ট্রেকিং-এর আনন্দের
কাছে ম্লান হয়ে গিয়েছিল। রাত্রে কিছুক্ষণ তাস খেলে ঘুম।
১৫ নভেম্বর। আজ আমাদের সভ্য জগতে ফিরে যাওয়ার পালা।
তবে অসভ্য জগতেও ছিলাম না। মূলত সভ্য
বলতে বোঝাচ্ছি দোকান, যানবাহন, মোবাইল নেটওয়ার্ক
আছে এমন একটি জায়গা। তাজিংডং আসার আগ পর্যন্ত গত পাঁচদিন
ছিলাম নেটওয়ার্কের বাইরে। নেটওয়ার্ক পাওয়া মাত্র সবাই
প্রত্যেকের বাসায় ফোন দিয়ে বলতে পারলাম
যে আমরা বেঁচে আছি। তাজিংডং-এর কাছে নেটওয়ার্ক
পেয়ে যে কি আনন্দ হয়েছিল
তা বলে বোঝানো যাবে না। আজ আমরা থানচির পথে হাঁটছি। শেরকর
পাড়া থেকে রওনা হয়ে দু-দুটো খাড়া পাহাড় বেয়ে কয়েক ঘণ্টার
আমানুষিক পরিশ্রম শেষে আমরা বোর্ডিং পাড়ায় এসে পৌঁছালাম।
বোর্ডিং পাড়ায় এসে নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম
না। কেন জানেন? আমরা একটা দোকান পেয়েছি। তখন দুপুর
বারটা হবে।এই দোকান পাওয়ার দু-তিন ঘণ্টা আগেই আমাদের
ছ’দিনের বরাদ্দকৃত কেক-বিস্কুট শেষ হয়ে গিয়েছিল। খুব
টেনশনে ছিলাম। যাই হোক,
দোকানে বিস্কুট, কলা, চা ইত্যাদি ইত্যাদি বুভূক্ষের মত
সাবার করে দিলাম।
অবশেষে থানচি বাজার। থানচিতে এসে সাঙ্গু নদীর সুশীতল
পানিতে ঝাপিয়ে পড়লাম। সাঙ্গু নদী দেখেই খেয়াল
হলো যে গত পাঁচ-ছয়দিন গোসল করা হয়নি।
দুপুরে থানচি বাজারে জম্পেশ খেয়ে তিনটার বাসে বান্দরবান।
সন্ধ্যে নাগাদ ক্যান্টনমেন্টের ‘অনির্বাণ তিরিশ’ ক্যান্টিনে কাবাব
আর বসনিয়া পরোটা যেন অমৃত মনে হল। তারপর রাতের
বাসে ঢাকায়।
আমার ক্ষুদ্র জীবনের সেরা অভিযান ছিল সাকা হাফং মিশন।
একসাথে কেওক্রাডাং, তাজিংডং, সাকা হাফং সহ ছোট বড় অর্ধশতাধিক
পাহাড় ছয়দিন যাবৎ ট্রেকিং করা আমাদের মত ট্রেকারদের জন্য
ছিল বড় একটা চ্যালেঞ্জ। এ অভিযান
থেকে আমরা একদিকে যেমন পেয়েছি ট্রেকিং-এর আনন্দ,
তেমনি পেয়েছি সংগ্রামময় জীবনে টিকে থাকার আনন্দ, সমস্ত
প্রতিকূলতা জয় করে দেখেছি বান্দরবানের দুর্গম অঞ্চলের
চোখধাঁধানো প্রাকৃতিক রূপ, অন্যদিকে নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রাও খুব কাছ থেকে দেখেছি। একটা গান বারবারই
তখন মনে নাড়া দিয়ে যাচ্ছিল-
“এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে না কো তুমি,
সকল দেশের রাণী সে যে আমার জন্মভূমি...”
পোস্ট টি সংগৃহীত, Sanjid Khan Mishu ভাইয়ের travelers of Bangladesh গ্রুপের একটা পোস্ট এখানে সরাসরি কপি করা।






